Monday, December 3, 2018

অ্যাকোরিয়ামের সৌন্দর্যে ব্যবহৃত কিছু জলজ উদ্ভিদ।।

অ্যাকোরিয়ামে ব্যবহৃত বেশির ভাগ জলজ উদ্ভিদ সাধারণত অ্যাকোরিয়ামেই বংশবিস্তার করতে সক্ষম।
  1. হাইগ্রোফিলা, ক্যাবোমবা্, লুডুইগিয়া, মাইরিওফাইলাম ইত্যাদি সরু ও লমবা কাণ্ড জলজ উদ্ভিদ শাখা বিভাজন পদধতিতে বংশবিস্তার করে। শাখা বা কাণ্ডের কোন অংশ কেটে অ্যাকোরিয়ামের তলদেশে রোপণ করলে নতুন চারা উৎপন্ন হয়।
  2. অ্যাকোরিয়ামে লিলি, ক্রিপটোকোরিন ইত্যাদির শাখা মুকুল কেটে লাগালেই নতুন চারা উৎপন্ন হয়।
  3. স্যাজিটিরিয়া, ভ্যালিসনেরিয়া, ইকাইনোডোরাস ইত্যাদি উদ্ভিদ সরু অনুভূমিক শাখা উৎপন্ন করে। মাটির সংম্পর্শে এই শাখায় মূল উৎপন্ন হয়। মূল উদ্ভিদ থেকে এই শাখা আলাদা হয়ে নতুন চারা উৎপন্ন করে।
  4. আমাজন সোর্ডপ্ল্যানট্ তার পুম্প বৃন্ত থেকে সরাসরি নতুন চারা উৎপন্ন করে।
  5. অ্যানাকারিস জাতীয় উদ্ভিদের কাণ্ডে নিয়মিত ব্যবধানে দুর্বল অংশের সৃষ্টি করে ও জলস্রোতে দুর্বল জায়গা থেকে খণ্ড বিচ্ছিন্ন হয়। প্রতিটি খণ্ড থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়।
পোটামোগেটন, ম্পাইরোডেল্লা, মাইরিওফাইলাম ইত্যাদি জলজ উদ্ভিদের উইনটা্র বাড বা মুকুল জলে সুপত্ অবস্থায় থাকে ও গ্রীষ্মকালে সেই সকল বাড থেকে নতুন চারা উৎপন্ন হয়।

অ্যাকোরিয়ামে ব্যবহৃত জনপ্রিয় কিছু জলজ উদ্ভিদের কথা🏝

ওয়াটার উইস্টারিয়া (Water Wisteria) :
বিজ্ঞানসম্মত নাম -  হাইগ্রোফিলা ডিফরমিস(Hygrophila Difformis)
প্রাকৃতিক বিস্তার - দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • পাতা ডিমবাকৃতির হয়। কাণ্ডের দুপাশে পরিবর্ত পদ্ধতিতে পাতা বিন্যস্ত থাকে।
  • জলে নিমজ্জিত পাতার রঙ ধূসর সবুজ ও জলের উপর থাকা পাতার কিনারা কালচে রঙের হয়। ফুলের রঙ গোলাপী, সাদা বা হালকা নীল হয়।

অ্যাপোনোগেটন (aponogeton) :
বিজ্ঞানসম্মত নাম - অ্যাপোনোগেটন ক্রিশপাস(Aponogeton Cripus)
প্রাকৃতিক বিস্তার - দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • পাতা সমান ও বৃহদাকারের হয়। কিনারা ঢেউ খেলানো।
  • পাতার বর্ণ সবুজ হয় ও পাতায় জালিকাকার শিরাবিন্যাস পরিলক্ষিত হয়।
  • হলুদ বর্ণের ছোট ছোট ফুল হয়।মূল ক্ষুদ্রাকৃতির হয়।

অ্যারোউইড (Arrow weed) :
বিজ্ঞানসম্মত নাম - সাজিটেরিয়া সাজিটিফলিয়া(Sagittaria Sagittaefolia)
প্রাকৃতিক বিস্তার - ইউরোপ, আমেরিকা, এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • বর্ষজীবী এবং আংশিক বা সম্পূর্ণ নিমজ্জিত উদ্ভিদ।
  • পাতা ধনুকাকৃতির।
  • ফুলের রঙ সাদা ও তিনটি পাপড়ি বিশিষ্ট।
  • বীজের দ্বারা বংশবিস্তার করে।

ক্যাবোমবা্ বা ওয়াটার ম্প্রাইট (Cabomba or Water sprite) :
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ক্যাবোমবা্ অ্যাকোয়াটিকা(Cabomba Aquatica)
প্রাকৃতিক বিস্তার - উত্তর আমেরিকা।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • পাতা খুব নরম ও মসৃণ প্রকৃতির।
  • পাতার বর্ণ হালকা সবুজ হয়।
  • ফুলের রঙ হলুদ বা হালকা লাল হয়। বৃন্ত ক্ষুদ্রাকার হয়।
  • রাইজোম থাকে।
  • অঙ্গজ জনন পদধ্যতিতে বংশবিস্তার করে।

ভ্যালিসনেরিয়া(Eel Grass)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ভ্যালিসনেরিয়া প্রজাতি(Vallisneria Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - উষ্ণ মণ্ডলীয় ও উপ-উষ্ণ মণ্ডলীয় উদ্ভিদ।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • জলে নিমজ্জিত উদ্ভিদ।
  • পাতা লম্বা ও ফিতাকৃতির।
  • পাতার বর্ণ সবুজ ও পাতার অগ্রভাগ জলের উপর ভাসে।
  • পুরুষ ও স্ত্রী গাছ পৃথক হয়।

লুডুইগিয়া(Lance leaf plant)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - লুডুইগিয়া প্রজাতি(Ludwigia Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -

  • বর্ষজীবী উদ্ভিদ।
  • পাতা নরম কাণ্ডের দুই পাশে পরিবর্ত পদধ্তিতে বিন্যস্ত থাকে।
  • ফুল ক্ষুদ্রাকার।
  • ফুলের রঙ হলুদ অথবা সবুজ।

আমাজন সোর্ড(Amazon Sword)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ইকাইনোডোরাস অ্যামাজোনিকাশ(Echinodorus Amazonicus)
প্রাকৃতিক বিস্তার - দক্ষিণ আমেরিকা।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • একবীজপত্রী উদ্ভিদ।
  • পাতা ফিতাকৃতির।
  • কাণ্ডের পর্ব থেকে গুচ্ছাকারে পাতা বের হয়।
  • ফুলের রঙ সাদা। বৃন্ত থাকে।
  • মূল মাটিতে আবদধ্ থাকে।

ওয়াটার মিলিফয়েল(Water Milifoil)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - মাইরিওফাইলাম প্রজাতি(Myriophyllum Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - পৃথিবীর প্রায় সবদেশে পাওয়া যায়।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • নিমজ্জিত বা আংশিক নিমজ্জিত উদ্ভিদ।
  • পাতা কাণ্ডের দুই পাশ বরাবর বিন্যস্ত থাকে।
  • অঙ্গজ জনন পদধ্তিতে(স্টেম কাটিং) বংশবিস্তার করে।

কচুরিপানা(Water Hyacinth)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - আইকোরানিয়া ক্রাসিপাস(Eichhornia Crassipes)
প্রাকৃতিক বিস্তার - আমাজন বেসিন।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • এটি জলের উপরিভাগে ভাসমান অবসথা্য় থাকে।
  • এটির পাতা চওড়া, মোটা ও চকচকে হয়।
  • হালকা বেগুনি রঙের ফুল ফোটে।
  • এদের লমবা্, ফাঁপা, ম্পঞ্জের মতো ফোলা কাণ্ড দেখা যায়।

হাইড্রিলা(Hydrilla)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - হাইড্রিলা প্রজাতি(Hydrilla Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - ইউরোপ ও এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • এটি সাধারণত জলের উপরিতলে থাকে।
  • এর পাতাগুলি বেলেডের মতো সুচালো হয়।
  • তাজা অবস্থায় পাতার মাঝখানটা লালচে রঙের হয়।


ক্রিপটোকোরিন(Cryptocoryne)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ক্রিপটোকোরিন প্রজাতি(Cryptocoryne Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - ইউরোপ ও এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • এটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ।
  • পাতাগুলো কালচে সবুজ থেকে বাদামি রঙের হয়।
  • পাতার নিচের দিকটা লালচে রেখা যুক্ত।
  • এটি নিমজ্জিত প্রকৃতির জলজ উদ্ভিদ।

ব্রাক্ষী(Waterhyssop)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ব্যাকোপা মনিয়েরি(Bacopa Monnieri)
প্রাকৃতিক বিস্তার - দক্ষিণ ও পূর্ব  ভারতে, অষ্ট্রেলিয়া, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • এর পাতাগুলি উজ্জ্বল সবুজ রঙের হাওয়ার জন্য এটি অ্যাকোয়ারিয়াম উদ্ভিদ হিসেবে যথেষ্ট আকর্ষণীয়।
  • এরা সম্পূর্ণ বা আংশিক নিমজ্জিত প্রকৃতির।

টোপা পানা(Water Letus)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - প্রিসটিয়া স্ট্রেটিওটস(Pristia Stratiotes)
প্রাকৃতিক বিস্তার - এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • এটি Araceae পরিবার ভুক্ত জলের উপর ভাসমান শ্রেণীর গাছ।
  • এই গাছগুলির শিকড় ভাসমান হওয়ার জন্য ডিম ছাড়া ও বাচ্চা মাছের আশ্রয় হিসাবে ব্যবহার করা যায়।

ডাকউইড(Duckweed)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - লিমনা পারপুশিলা ও স্পাইরোডিলা পলিরাইজা(Lemna Perpusila & Spriodela Polyrhiza)
প্রাকৃতিক বিস্তার - এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • ভাসমান ছোট সবুজ পানা।
  • পাতার নীচে একটি করে শিকড় থাকে।
  • পাতার তলার রঙ লালচে বা মেরুন হয়।
  • একাধিক পাতা stolon দ্বারা যুক্ত থাকে।

সূচীগ্রাস (Hair Grass)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - ইলিওকারিস প্রজাতি(Eleocharis Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • গভীর জলের ধানক্ষেত ও তার আসে পাশের জলাভূমিতে জন্মায়।
  • নিমজ্জিত অবস্থায় root stock এর উপর থেকে সাধারণত 50-100 সে.মি. পযর্ন্ত লম্বা এক গোছা সবুজ ও মোটা সুতোর মত ভাসমান পাতা যুক্ত অবস্থায় দেখা যায়।
  • মাঠের জল শুকিয়ে আসার সময় এই পাতাগুলো পচে যায় এবং তখনই এই গাছের root stock থেকে scirpus articulates এর মতো গোল ডাঁটির কান্ড জন্মায়।
  • সরুপাতা যুক্ত এই গাছগুলো হেয়ারগ্রাস বা সূচিঘাস নামে পরিচিত।
  • এগুলি অ্যাকোরিয়ামে বৈচিত্র্য আনে এবং এর ঘন পাতার ঝাড় ছোট মাছের অত্যন্ত প্রিয় আশ্রয়স্থল।
  • এটি ভাসমান উদ্ভিদ।

শালুক (Water Lily)
বিজ্ঞানসম্মত নাম - নিমফিয়া প্রজাতি(Nymphaea Sp.)
প্রাকৃতিক বিস্তার - এশিয়া।
উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য -
  • শালুক বা শাপলা খুবই সহজ লভ্য।
  • পুকুর, ডোবা ইত্যাদি জলাশয়ে জন্মায়।
  • শালুক সাদা, লাল, নীল, হলুদ ও বেগুনি রঙের হয়।
  • বীজ থেকে চারা হওয়া ছাড়াও শিকড় থেকেও নতুন গাছের জন্ম হয়।
  • সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও বিশেষত রোদে রাখা জলাধারে বা চৌবাচ্চায় ব্যবহার করা হয়।।



মৎস চাষ বিষয়ে বিষদ জানতে আমার YOUTUBE CHANNEL অনুসরণ করুন।




No comments:

Post a Comment